সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জঙ্গিপনা দেখানোর তালি বাজানোর ক্ষেত্রেও এক হাতে কাজ হয় না
বিজেপি আরএসএস প্রমুখ জঙ্গি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির নানা ধরনের প্রচারে যে হিন্দু জনসাধারণের একটা বড় অংশ বিশ্বাস করে এবং বিভ্রান্ত হয়, এর পেছনে কতগুলো সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে। আমরা যদি সেই জায়গাটা ধরতে না পারি, তাহলে ওদের প্রচারের পাল থেকে কখনই হাওয়া কেড়ে নিতে পারব না। মানব দেহের অসুখের চিকিৎসার মতোই সমাজ মননের অসুখেরও চিকিৎসার পদ্ধতি প্রকরণ অনেকটা একই রকম। ভাইরাস ব্যাক্টিরিয়াগুলোকে সনাক্ত করতে হবে, কোথায় তারা কীভাবে বাসা বেঁধেছে, তা জানতে হবে, তারপর তাদের নির্মূল করার কথা চিন্তা করতে হবে। এযাবত আমরা বামপন্থীরা মার্ক্সবাদীরা এইভাবে কাজটা করিনি। করতে যে হবে তাও ভাবিনি। ওরা একের পর এক মিথ্যা প্রচার গুজব বিভ্রান্তি ছড়িয়ে গেছে, আমরা তার পেছন পেছন ছুটে কোনটা মিথ্যা, কোন কথাগুলো গুজব, কী কী বিভ্রান্তি, তার জবাব দেবার চেষ্টা করে গেছি। ততক্ষণে ওরা আবার নতুন কিছু কথা বাজারে এনে ফেলেছে।
আসলে অবস্থাটা হওয়ার দরকার ছিল এই রকম: আমরা ওদের প্রশ্নের পেছনে ছুটব না; আমরা প্রশ্ন তুলব, ওরা উত্তর দিতে বাধ্য হবে। কিন্তু দেশের বুকে বিভিন্ন প্রান্তে যখন গণ আন্দোলন শ্রেণি সংগ্রাম সমাজমুক্তির লড়াই চলতে থাকে, তখন ওরা এমনিতেই মুখ লুকিয়ে গর্তে বসে থাকে। বামপন্থীরা তখন মনে করে, এসব ধর্মসংক্রান্ত সাম্প্রদায়িক বা মৌলবাদী মুদ্দাগুলোর কথা আম পাবলিকের কাছে তোলার আর কোনো দরকার নেই। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক শ্রেণি মুদ্দাগুলিকে যত জনপ্রিয় করা যাবে ততই এসব ধ্যান ধারণা সমাজ মননে পিছু হঠতে থাকবে। নিজে থেকে ধীরে ধীরে মুছে যাবে। অথচ, বাস্তবে যেটা হয়, তা হল: অধিকাংশ সাধারণ মানুষের সচেতন মনে সংগ্রামের কথাগুলোই উথালপাতাল হতে থাকে ঠিকই; কিন্তু পাশাপাশি অবচেতনলোকে তখনও অশ্রেণি বা প্রতি-শ্রেণি অভিপাদ্যগুলো ব্যাক্টিরিয়ার মতোই বাসা বাঁধতে থাকে, গহন মনে উপনিবেশ বানিয়ে ফেলতে থাকে। ধর্ম জাতপাত মগজের কিছু না কিছু জায়গা দখল করে বসেই থাকে। আমরা তা খেয়াল করি না, টের পাই না বা গ্রাহ্যও করি না। অন্তত এতকাল লক্ষ করিনি।
কিন্তু যখন এই রকম আন্দোলন থিতিয়ে যায়, মানুষ হতাশায় ভোগে, তখন সমস্ত ধরনের মৌলবাদীরা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে, আর ওদের কথাগুলি সরবে বলতে শুরু করে। যেহেতু মানুষের মনে তার কিছু কিছু নিরাপদ আশ্রয় স্থল ভালোভাবে থেকে গেছে, তার ফলে তারা জোর পায়, পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পায়, সহজেই এক বিরাট অংশের মানুষের মনের চেতন-অচেতন প্রায় সমস্ত কক্ষ দখল করে ফেলে। তখন বামপন্থীদের কাজ হয়ে দাঁড়ায় কেবলমাত্র সম্প্রীতির কথা বলা, ঐক্যের কথা বলা, ইত্যাদি। তখনও তারা আর ধর্মকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা সমাজের বুকে ছড়িয়ে আছে তা নিয়ে বিচারবিশ্লেষণাত্মক কিছুই বলতে পারে না। কেন না, সেই রকম পরিস্থিতিতে তাদের ভয় হয়, সেই সব কথা তুলতে গেলে যদি মানুষ খেপে যায়। যদি সাধারণ মানুষ আমাদের কথা শুনতে না চায়। জন-বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কায় আমরা পিছিয়ে যাই। তার মানে হল, প্রয়োজনীয় এই সমস্ত কথাগুলো আমাদের বামপন্থীদের তরফে প্রায় কখনই আর বলা হয়ে ওঠে না। ধর্মীয় মৌলবাদীদের বড় সুবিধা হচ্ছে এই জায়গাটায়। তারা সব সময়েই তাদের কথাগুলো বলতে পারে এবং বলে যেতে থাকে—কখনও ফিসফিস করে, আবার কখনও উঁচু গলায়।
আর একটা কথাও বোধ হয় ভারতের বামপন্থী ও মার্ক্সবাদীরা অনেকেই ভেবে দেখেননি। ইউরোপের কমিউনিস্ট আন্দোলন সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বা গণচেতনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা পেয়েছিল রেনেশাঁস আন্দোলনের ফসল থেকে। ফরাসি বিপ্লবের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া থেকে। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব তার শ্রেণিগত অনেক দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতা নিয়েও তিন বা চারশ বছর ধরে জনসাধারণের মধ্যে ইতিহাসবোধ বা যুক্তিবাদী বিচারধারা গড়ে তোলার বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছিল। বিজ্ঞানের বিকাশও সেখানে হয়েছে নানা রকম ধর্মীয় শক্তি সংগঠন ও বিশ্বাসের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে লড়াই করতে করতে। একদিকে কোপার্নিকাস, সার্ভেতো, ব্রুনো, গ্যালিলেও, প্রমুখর হাত ধরে নিউটন পর্যন্ত এসে বিজ্ঞানের তত্ত্বগত বিকাশ ও আরও এগিয়ে প্রযুক্তিগত প্রয়োগ, শিল্প বিপ্লব; অপর দিকে শিক্ষার বিস্তার, গণ মুদ্রণ ও বইপত্রের সংখ্যাবৃদ্ধি, গ্রাম ও শহরের বিচ্ছিন্নতার অবসান—ইত্যাদির মধ্য দিয়ে বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদের ক্রমবর্ধমান ধাক্কা খেতে খেতে সামন্তযুগীয় প্রাচীনপন্থী ধর্মীয় মনন ধীরে ধীরে বৃহত্তর জন-মানসে তার শক্তি অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিল। তার দরুন কমিউনিস্ট আন্দোলন সেখানে তার কাজ শুরু করতে পেরেছিল বেশ কয়েক কদম এগিয়ে থেকে।
আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটা পাওয়ার উপায় নেই। ভারতীয় বুর্জোয়াদের কিছু ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতার কারণে ঔপনিবেশিক পরিমণ্ডলে এখানে বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন তথা রেনেশাঁস আন্দোলন যতটুকু হয়েছে তা দেশের দু তিনটে মাত্র পকেটে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। তার উত্তাপ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কম-বেশি গেলেও তার আলো প্রায় কোথাওই খুব একটা যায়নি। আবার ইউরোপের তুলনায় এই দেশের রেনেশাঁস ছিল নানা দিক থেকে খুবই দুর্বল, জমি এবং জমিদারির সাথে গাঁটছড়া বেঁধে চলার কারণে সামন্ততান্ত্রিক কু-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বহু কথাই সে খুব জোর গলায় বলতে পারেনি। যেটুকু বলতে শুরু করেছিল, তাকেও খুব তাড়াতাড়ি রক্ষণশীলরা নানা মাত্রায় বিরোধিতা করে অথবা প্রাচীন সংস্কারের খাদ মিশিয়ে অনেকখানি পানসে করে দেয়। ভারতের রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংগ্রামেরও একই সমস্যা। সেখানেও বুর্জোয়াদের সেই অংশটাই নেতৃত্ব দিয়েছে যারা ছিল মূলত রক্ষণশীল, সমস্ত প্রগতিশীল ধ্যান ধারণা মূল্যবোধের স্বাঙ্গীকরণে অপারগ, বা অনিচ্ছুক। ফলে, এখানে কমিউনিস্টদের সংস্কৃতি কর্মীদের এবং তাদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ যুক্তিবাদী আন্দোলনের কর্মকর্তাদের এমন অনেক বিষয় উত্থাপনের দায় ছিল যা আসলে অপূরিত বুর্জোয়া বিপ্লবেরই সার কথা। এ কাজগুলি তাঁরাও শেষ অবধি সাহস করে না করায়—এমনকি করতে যে হবে তাও না বোঝায় (কেউ কেউ উলটে রেনেশাঁসের অর্জিত সামান্য ফসলটুকুকেও অস্বীকার ও আত্মস্থ করার এক মেকি-বিপ্লবীয়ানায় ফেঁসে যাওয়ার ফলে)—সমাজ জীবনে একটা বড় ফাঁক থেকে গেছে, যা সহজেই বর্তমান কালের প্রতিক্রিয়াশীলরা তাদের বস্তাপচা আদিম ও মধ্যযুগীয় ধ্যানধারণা দিয়ে ভরাট করে দেবার সুযোগ পেয়ে গেছে। সেই পাপেরও মূল্য আজ আমাদের কড়ায়-গণ্ডায় চুকাতে হচ্ছে।
২০১৪ সালে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সরকারে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতাসীন হওয়া, এবং, বিশেষ করে, আরএসএস পরিবারের গুড-বয়, গুজরাতের শতাব্দকালের ভয়াবহতম মুসলিম নিধন যজ্ঞে হাত পাকানো, নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসার কাছাকাছি সময় থেকে এই সাম্প্রদায়িকতার সমস্যা আমাদের দেশের বুকে নতুন করে তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে। [Bhattacharya 2014] এটাও লক্ষণীয়, যখন যেখানেই নির্বাচনের ঢাক বেজে উঠেছে, সেখানেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বিজেপি-র লোকেরা দাঙ্গা লাগিয়ে দিয়েছে। লোকসভা এবং উত্তরপ্রদেশের বিধানসভার নির্বাচনের প্রাক্কালে ওরা মেরাত মোরাদাবাদ ইত্যাদি জায়গায় মুসলিম বসতির উপরে বেশ ভালো রকম হামলা চালিয়েছে। দিল্লিতে যখন বিধানসভা ভোট আসন্ন, সেখানেও ওরা একবার দাঙ্গা বাধিয়ে বসেছিল। পশ্চিম বাংলায় বিগত বিধানসভার ভোটের প্রাক্কালেও ওরাও বাজারে নেমে পড়েছিল এবং নানা রকম পরিকল্পনা করেই এগোচ্ছিল, যাতে পুরোদস্তুর দাঙ্গা-হাঙ্গামা যদি নাও লাগানো যায়, অন্তত ভোটদাতাদের মধ্যে একটা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ দ্রুত ঘটতে থাকে ও উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডকে কেন্দ্র করে সেই সময় ওরা কীভাবে ঘুঁটি সাজিয়ে এগিয়েছিল, এন-আই-এ-কে দিয়ে কীভাবে একটা জবরদস্ত মুসলিম জঙ্গি চক্রের অস্তিত্ব-কাহিনি তৈরি করে ফেলেছিল, যার মধ্যে এই অপপ্রয়াসের সমস্ত লক্ষণই বেশ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল, এতদিনে সকলেই জেনে গেছেন! [Mirsab 2014; Shahi 2014]
নরেন্দ্র মোদীর সরকার কিছুদিন বিকাশ টিকাশের কথা বলে নিজেদের সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী পরিচিতিকে সরিয়ে রেখে একটা শক্ত সমর্থ কাজের দল হিসাবে আসতে চাইলেও, একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে নিতে এবং তার প্রতিক্রিয়ায় ঠুনকো জনপ্রিয়তা দ্রুত হারাতে থাকার ফলে অচিরেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের চাপে বিজেপি আবার তার স্বমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করে ফেলেছে। গরু এবং গোমাংস নিয়ে দেশ জুড়ে একটা হইচই বাধিয়ে তুলে যত্রতত্র গোমাংসের খোঁজে এবং গন্ধে নিরীহ মুসলিম জনসাধারণের উপর হামলা চালাতে শুরু করে দেয়। একই সঙ্গে চলতে থাকে দলিত সম্প্রদায়ের উপরেও হামলার সিরিয়াল। যেহেতু হিন্দু হিসাবে ধরলে, তারাই সংখ্যায় বিপুল বৃহত্তর অংশ, এক্ষেত্রেও লক্ষ্য হল, ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন ধরিয়ে তাদেরকে ব্রাহ্মণ্য ঐতিহ্য ও বিজেপি-আরএসএস মার্কা হিন্দুত্বকে মেনে নিতে বাধ্য করা। আর এই প্রক্রিয়ায় দেশের বুকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে জ্বালিয়ে রাখা।
[৩] ভ্রম নিরসন
প্রথমে আমি এখানে কিছু সাধারণ বিষয় তুলে ধরতে চাই। অনেকেই মনে করেন, আমরা বামপন্থীরা, মার্ক্সবাদীরা, বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদের পক্ষের মানুষেরা ভারতে শুধুমাত্র হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেই সোচ্চার; মুসলিম জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমরা নাকি কখনই মুখ খুলি না। সমালোচনা করি না। কথাটা সঙ্ঘ পরিবারের তরফে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা প্রচার এবং সাধারণে প্রচলিত একটি আগাপাশতলা ভুল ধারণা। এই মিথ্যা এবং ভুল চিনবার জন্য বিপরীত দিক থেকে একজন মুসলিম মৌলবাদীর সঙ্গে কথা বলে দেখুন। সাড়ে তিন সেকেন্ডের মধ্যেই টের পেয়ে যাবেন, বামপন্থী, মার্ক্সবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদীদের চেয়ে বড় শত্রু তাদের কাছেও আর কেউ নেই। তারাও বরং হিন্দু সাম্প্রদায়িক মৌলবাদীদেরই অনেক বেশি আপনজন বলে মনে করে। বন্ধুভাবে দেখে।
কেন?
দুটো অনিবার্য কারণে।
এক, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জঙ্গিপনা দেখানোর তালি বাজানোর ক্ষেত্রেও এক হাতে কাজ হয় না। দুই হাত লাগে। সেখানে এরা একে অপরের তালির কারণ এবং কার্য হিসাবে কাজ করতে পারে। এ ওকে দেখায়, ও একে দেখায়। দু পক্ষেরই দু পক্ষকে প্রয়োজন। এক পক্ষ আর এক পক্ষের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করে। এই কথাটা দুনিয়া জুড়েই সত্য। যেখানে ইহুদি জঙ্গিপনা আছে, সেখানেই ইসলামিক জঙ্গিরাও আছে। হিটলারের খ্রিস্টীয় সন্ত্রাসই ইহুদি সন্ত্রাসীদের জন্ম দিয়ে গেছে। এ প্রায় ব্যতিক্রমহীনভাবে সর্বজনীন সত্য। অতএব ভারতেও শুধু হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা আছে, মুসলিম সাম্প্রদায়িকতা নেই—একথা বলার বা মনে করার কোনো কারণই নেই। এটা বাস্তবে সম্ভবই নয়।
দুই, সমস্ত জঙ্গিবাদেরই একেবারে প্রথম প্রয়োজন যুক্তিবাদের বিনাশ। শ্রেণিচেতনার ধ্বংসসাধন। মানুষ যদি স্বাধীনভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে, প্রশ্ন তোলে, যুক্তি এবং তথ্য দিয়ে সমস্ত জিনিস বুঝতে চায়, সাধারণ মানুষ যদি তার শ্রেণিস্বার্থের কথা ভাবতে থাকে, ধর্মীয় মৌলবাদের পক্ষে তার চেয়ে সর্বনেশে কীটনাশক আর কিছু হয় না। তার সমস্ত জারিজুরি, সমস্ত জোর, মানুষকে বিভ্রান্ত করার সমস্ত কলকাঠি নিমেষে হাতছাড়া হয়ে যাবে। সুতরাং, আরএসএস যখন যুক্তিবাদকে ধ্বংস করে, শ্রেণিগত ঐক্যের বদলে ধর্মীয় ঐক্যের শ্লোগান দেয়, সে শুধু হিন্দুদেরই যুক্তিবোধ কেড়ে নেয় না, একই সঙ্গে মুসলিম আম জনতারও বিচারবুদ্ধিকে খতম করে দেয়। সে এটা চায় কিনা, ভেবেচিন্তে করে কিনা বড় কথা নয়। যা সে করে তার পরিণাম এটাই। পক্ষান্তরে, মুসলিম মৌলবাদীরাও যা করে তাতে সাড়া দিতে গিয়ে শুধু সাধারণ মুসলিম নয়, একই সঙ্গে হিন্দু জন সাধারণও যুক্তি হারিয়ে মনের ঝাল মেটাতে থাকে। এইভাবে দুই পক্ষই দুই পক্ষকে শক্তি ও ন্যায্যতা যোগাতে থাকে এবং পারে। দু পক্ষেরই টিকে থাকতে গেলে একে অপরকে প্রয়োজন।